Wednesday, November 26, 2025

10> || খাটু শ্যাম ||

      10> || খাটু শ্যাম ||

বর্বরিক (যিনি খাটু শ্যাম নামে পরিচিত) হলেন ঘটোৎকচের পুত্র এবং ভীমের পৌত্র। তিনি এক শক্তিশালী যোদ্ধা ছিলেন, যিনি যুদ্ধের ফলাফল বদলে দিতে পারতেন। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের আগে তিনি তার মাথা বলি দেন এবং শ্রীকৃষ্ণ তাকে বর দেন যে তিনি কলিযুগে শ্যাম নামে পূজিত হবেন। 

বংশের পরিচয়: বর্বরিকের পিতা ছিলেন ঘটোৎকচ (যিনি ভীম ও হিডিম্বীর পুত্র) এবং মা ছিলেন মৌরবী (দৈত্য মুর-এর কন্যা)। তাই বর্বরিক ভীমের পৌত্র।

যুদ্ধের ক্ষমতা: বর্বরিক ছিলেন একজন অত্যন্ত শক্তিশালী যোদ্ধা এবং তার কাছে তিনটি ঐশ্বরিক তীর ছিল, যা দিয়ে তিনি কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের ফলাফল একাই বদলে দিতে পারতেন।

খ্যাতি ও নামকরণ: যুদ্ধের শুরুতে শ্রীকৃষ্ণ তাকে তাঁর মাথা উৎসর্গ করতে বলেন। তাঁর এই মহান ত্যাগ দেখে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে বর দেন যে, তিনি কলিযুগে শ্যাম নামে পরিচিত হবেন এবং পূজিত হবেন।

খাটু শ্যাম: বর্বরিকের এই কাহিনী রাজস্থান এবং উত্তর ভারতে খাটু শ্যাম নামে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তাঁর বলিদান এবং ত্যাগের জন্য তিনি খাটু শ্যাম নামে পূজিত হন। 

======================

Thursday, May 1, 2025

9>|| মহাভারত-বি আর চোপড়ার অসাধারণ একটি লেখা


9>|| মহাভারত-বি আর চোপড়ার অসাধারণ একটি লেখা 


পেলাম লেখাটা.. অসাধারণ..পড়ুন সবাই...


টিভিতে ১৯৮৯ এর ক্লাসিক ধারাবাহিক বি আর চোপড়ার মহাভারত পুনঃসম্প্রচারিত হচ্ছে। সিরিয়ালটা সবারই খুব মন দিয়ে দেখা উচিত। এই মহাভারত সিরিয়ালের পরিকল্পনা যখন চোপড়া সাহেব নিয়েছিলেন তখন সবচেয়ে বড় বিষয় যেটা তাকে চিন্তায় ফেলেছিলো সেটা হলো এই বিশাল এবং জটিল মহাকাব্যকে গল্পের ঢংগে সাধারন মানুষের কাছে পেশ করতে হলে একটা খুব শক্তিশালী এবং মজবুত চিত্রনাট্যের প্রয়োজন। এমনিতে স্ক্রীপ্ট রাইটারের অভাব ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নেই কিন্তু মহাভারতের আঠারো পর্বের সব ঘটনা পুংখানুপুংখ বিশ্লেষন করে সব চরিত্রের মুখে সংলাপ বসিয়ে চিত্রনাট্য বানানোর মতো সেইরকম পড়াশোনা জানা উপযুক্ত লোক কোথায়? অনেক ভেবে বি আর চোপড়া দেখলেন একজন লোকই এই ভারতবর্ষে আছেন যিনি এই কাজটা  নিঁখুতভাবে করতে পারেন। তিনি হলেন বিখ্যাত উর্দু কবি এবং  ফিল্ম চিত্রনাট্যকার ডঃ রাহী মাসুম রেজা (ম্যায় তুলসী তেরে আঙ্গন কি, কর্জ এবং ঋষিকেশ মুখার্জীর গোলমাল ওনার স্মরনীয় কাজগুলির মধ্যে অন্যতম)। 

বি আর চোপড়া ডঃ রাহী মাসুম রেজার সাথে যোগাযোগ করলেন। রেজা সাহেব সব শুনে বললেন এতো উত্তম প্রস্তাব কিন্তু সমস্যা হলো আবার নতুন করে পড়াশোনা করতে হবে। প্রচুর ধকল আর খাটুনী আছে। এই বয়সে অত ধকল নিতে পারবো না। আর অন্যান্য ফিল্ম সিরিয়ালের কাজও আছে। সময় বের করা মুশকিল। আপনি অন্য কাউকে দেখুন। 

এরপরেই সমস্ত নিউজ পেপারে এই সংবাদ খবর হিসাবে বেরিয়ে গেল যে বি আর চোপড়ার মহাভারতের চিত্রনাট্য লেখার প্রস্তাব ডঃ রাহী মাসুম রেজা প্রত্যাখান করেছেন। অমনি কিছু দিনের মধ্যেই চোপড়াদের দফতরে বন্যার মতো চিঠি আসা শুরু হয়ে গেল। উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো লিখলো - একটা মুসলমান ছাড়া মহাভারতের স্ক্রীপ্ট লেখানোর জন্যে আপনি সারা ভারতে আর লোক পাননি? হিন্দুরা কি মরে গেছে? গোঁড়া মুসলীম সংগঠনগুলিও চিঠিতে লিখলো - আপনার সাহস হয় কি একজন মুসলমানকে গিয়ে মহাভারতের স্ক্রীপ্ট লেখার কথা বলবার?

অত্যন্ত বুদ্ধিমান বি আর চোপড়া সমস্ত চিঠি রেজা সাহেবের ঘরে পাঠিয়ে দিলেন। সমস্ত চিঠির বক্তব্য এবং ভাষা পড়বার পরে রাহী মাসুম রেজা টেলিফোনে চোপড়া সাহেবকে কনফার্ম করলেন এই কথা বলে যে - এইবার মহাভারতের চিত্রনাট্য আমি ছাড়া দ্বিতীয় কেউ লিখবে না। আমিই লিখবো কারন আমিও গঙ্গাপুত্র ( রেজা সাহেব উত্তর প্রদেশের গঙ্গা তীরস্থ গাজীপুরে জন্মগ্রহন করেছিলেন)।


চিত্রনাট্য লেখার পরে যখন সিরিয়ালের সম্প্রচার শুরু হলো তখন প্রশংসার বন্যায় ভেসে গেলে ডঃ রাহী মাসুম রেজা। অধিকাংশ চিঠিতেই ওনার পান্ডিত্যের প্রশংসা  এবং দীর্ঘজীবনের কামনা ছিলো। মহাভারতের যে অসাধারন সম্বোধনগুলো ভীষন জনপ্রিয় হয়েছিল যেমন - মাতাশ্রী, পিতাশ্রী , ভ্রাতাশ্রী , তাৎশ্রী এই শ্রী যুক্ত সম্বোধনগুলো আগে কোন ধার্মিক কাহিনীতে ব্যবহৃত হয়নি। এটা ডঃ রাহী মাসুম রেজার এক স্মরণীয় কীর্তি।

কি অনবদ্য সংলাপ আর টানটান চিত্রনাট্য ছিল। কত সুন্দরভাবে মহাভারতএর জটিল জায়গা গুলোকে তুলে ধরেছিলেন। কোথায় সংস্কৃত শব্দ ব্যাবহার করতে হবে আবার কোথায় হিন্দী শব্দ ব্যবহার করতে হবে তারও এক দুরন্ত নমুনা পেশ করেছিলেন রেজা সাহেব। কুন্তী চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন নাজনীন , আর অর্জুনের চরিত্রে ফিরোজ খান। সামসুদ্দীন হয়েছিলেন বকাসুর। এটাই ভারতবর্ষ ।

রেজা সাহেব সমস্ত চিঠিগুলোকে বান্ডিল করে করে বেঁধে রাখতেন। এই রকম অনেক বড় বড় চিঠির বান্ডিল ওনার ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে রাখা থাকতো। একদিন এক সাংবাদিক যিনি রেজা সাহেবের কাছে ওনার সাক্ষাৎকার নিতে গেছিলেন তিনি একদম আলদা করে ঘরের কোনায় রাখা একটা ছোট্ট চিঠির বান্ডিলের দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করে রেজা সাহেবকে প্রশ্ন করলেন - এই ছোটো চিঠির বান্ডিলটা আপনি আলাদা করে রেখেছেন কেন? 

- ওটা স্পেশাল বান্ডিল। উত্তর দিলেন রেজা সাহেব।

 - স্পেশাল কেন? কি আছে ওতে? - 

- ওটাতে উগ্র হিন্দু এবং মুসলীম সংগঠনগুলোর তরফ থেকে মহাভারতের চিত্রনাট্য লেখার জন্যে আমাকে থ্রেট এবং গালাগাল করা হয়েছে। তাই আলাদা করে রেখেছি।

তারপরে রেজা সাহেব বললেন - এত বড় বড় বান্ডিলের মধ্যে এই গালাগাল এবং হুমকি চিঠির ছোটো বান্ডিলটা দেখে তিনি প্রেরনা পান এবং এটা ভেবে উৎসাহিত হন যে আমাদের দেশে নোংরা চিন্তা করা মানুষের সংখ্যাটা ভালো এবং শুভচিন্তা করা মানুষের তুলনায় অনেক কম।

এই ঘটনা কিন্তু আজও আমাদের একটা শিক্ষা দেয় যে এখনো চারদিকে যারা সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়াচ্ছে তাদের তুলনায় শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের সংখ্যাটা এখনো অনেক অনেক বেশী সেই জন্যেই দুনিয়া চলছে।

ডঃ রাহী মাসুম রেজা একটি ইন্টারভিউতে বলেছিলেন যে - আমার স্বধর্মের লোকেরা আমাকে বলে ও মুসলমান নয় আবার অন্য ধর্মের লোকেরা বলে ওতো মুসলিম কিন্তু আমার কাছে কেউ জানতে চাইলো না যে আমি কি!!

             ( সংগ্রহীত)


=======================

8>|| শ্রীকৃষ্ণের প্রতি উদ্ধবের প্রশ্ন::-

    

8>|| মহাভারত,

★শ্রীকৃষ্ণের  প্রতি উদ্ধবের প্রশ্ন::-
     আসলে যা সবারই প্রশ্ন:-
 ( মনেকরি এমন সত্য সকলেরই জেনেরাখা উচিৎ )।

◆ উদ্ধব ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের পরম ভক্ত ও সখা। শ্রীকৃষ্ণের শৈশব থেকেই তিনি তাঁর সঙ্গে থাকতেন এবং তাঁর  রথ চালানো সহ অনেক সেবা করতেন। কিন্তু তিনি কখনোই ভগবানের কাছে কোনো সাহায্য বা বর প্রার্থনা করেননি। একদিন শ্রীকৃষ্ণ উদ্ধবকে বললেন,

◆ “প্রিয় উদ্ধব, তুমি আমার কাছে কিছু প্রার্থনা করো; তোমাকে কিছু কৃপা করার আনন্দ লাভের মাধ্যমে এ অবতারে আমার লীলা সমাপ্ত করতে চাই।”

◆ উদ্ধব বললেন, "আপনার মহাভারত লীলায় আমি আপনার অনেক লীলার কিছুমাত্র বুঝিনি। প্রথমে আমায় বলুন, প্রকৃত বন্ধু কে?”

◆ উত্তরে শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “প্রকৃত বন্ধু সেই, যে বন্ধুর বিপদে সাহায্যের আহ্বানের অপেক্ষা না করেই বন্ধুর সাহায্যে চলে আসে।” উদ্ধব বললেন, “আপনি তো পান্ডবদের প্রিয় বন্ধু ছিলেন, তারা আপনাকে আপাদবান্ধব (সব বিপদের পরিত্রাতা) বলে বিশ্বাস করত। আপনি তো শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎও জানেন; আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানী; আপনি কি তাদের সাথে প্রকৃত বন্ধুর মতো আচরণ করেছেন?

◆ আপনি কেন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে পাশা খেলা থেকে বিরত রাখলেন না? আর যখন তা করলেন না, তবে কেন ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের পক্ষে ভাগ্যকে পরিচালিত করলেন না যাতে অন্তত ধর্মের জয় হতো। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির ধন-সম্পদ, রাজ্য ও নিজেকে হারানোর পর আপনি তো পাশা খেলা বন্ধ করতে পারতেন। পাশা খেলার দন্ড থেকে আপনি তাঁকে রক্ষা করতে পারতেন। আপনি তাও করেননি।

◆ দুর্যোধন যখন প্রস্তাব করেছিল যে, পান্ডবদের সব সৌভাগ্যের উৎস দ্রোপদীকে পাশায় বাজী রাখলে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের সব হারানো সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আপনি তো তখন আপনার ঐশ্বরিক ক্ষমতা ব্যবহার করে পাশার গুটিকে ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের পক্ষে চালিত করতে পারতেন। বরং আপনি যখন এলেন, তখন দ্রোপদী তার সম্ভ্রম প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। আর আপনি দাবি করেন যে, আপনি বস্ত্র দিয়ে তার সম্ভ্রম রক্ষা করেছেন?

◆ সভায় এতগুলো মানুষের মধ্যে একজন স্ত্রীলোকের চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে এনে তার পরনের বস্ত্র প্রায় খুলে ফেলার পর তার কোনো সম্মান আর বাকি ছিল কি? আপনি তার কী রক্ষা করলেন? চরম বিপদের সময় আপনি সবাইকে রক্ষা করেন বলে আপনার নাম আপাদবান্ধব। বিপদের সময়ই যদি আপনি সাহায্য না করলেন,তাহলে এ সাহায্যের অর্থ কী? এই কি ধর্ম?” 

◆ প্রশ্নগুলো করতে করতে উদ্ধবও অঝোর নয়নে কান্না করছিলেন। আসলে এ প্রশ্ন শুধু উদ্ধবের একার নয়; যারা মহাভারত পড়েছে, তাদের অনেকের মনেই এ একই প্রশ্নের উদয় হয়। 

◆ তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হেসে বললেন," প্রিয় উদ্ধব, এ পৃথিবীর নিয়ম হলো শুধু তারাই জেতে যাদের বিবেক (ভালো-মন্দ পার্থক্যের বিচারবোধ) আছে। যুধিষ্ঠিরের বিবেক কাজ করেনি যখন দুর্যোধনের বিবেক কাজ করেছিল, তাই দুর্যোধনের জয় হয়েছিল।” শ্রীকৃষ্ণের কথায় উদ্ধব আরো দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ল। 

◆ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলতে লাগলেন, “দুর্যোধনের অনেক সম্পদ ছিল, কিন্তু সে পাশা খেলতে জানতো না, তাই সে মামা শকুনিকে তার জায়গায় খেলতে বলেছিল। এটা বিবেক। ঠিক একইভাবে যুধিষ্ঠির মহারাজও আমাকে তার হয়ে খেলতে বলতে পারতো, যেহেতু আমিও সম্পর্কে তার পিসতুত ভাই। কে জিততো, খেলাটা যদি আমার আর শকুনি মামার মধ্যে হতো? তোমার কী মনে হয় উদ্ধব? আমি কী করে যুধিষ্ঠিরকে ক্ষমা করি, যখন সে আমাকেই ভুলে গিয়েছিল?”

◆ বিবেকবর্জিত অবস্থায় সে আরো একটা বড় ভুল করে বসল; সে প্রার্থনা করল, আমি যেন পাশার ওই সভাতে না যাই, আর তার এ প্রতারণার শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে পাশা খেলার পরিণতির কথা না জানি। সে প্রার্থনা করে পাশার ওই সভার বাইরে আমাকে বেঁধে ফেলল, আমি তো বাইরে অপেক্ষা করছিলাম, আর প্রত্যাশা করছিলাম কেউ অন্তত আমাকে ভেতরে আসার প্রার্থনা করুক।

◆ যখন ভীম, অর্জুন, নকুল, সহদেবও হেরে গেল, তখন তারা দুর্যোধনকে অভিসম্পাত, আর নিজেদের ভাগ্যকে দোষারোপ করায় ব্যস্ত ছিল; আমাকে কেউ স্মরণ করেনি। দুর্যোধনের আদেশে দুঃশাসন যখন দ্রোপদীর  চুল ধরে টেনে হিঁচড়ে সভায় নিয়ে এলো, দ্রোপদী তখনও আমাকে স্মরণ করেনি; তার নিজের সামান্য ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রতিবাদ করছিল মাত্র। 

◆ দুঃশাসন যখন তার বস্ত্র হরণ করতে শুরু করল, তখন তার কিছুটা শুভবুদ্ধির উদয় হলো, নিজের শক্তির ওপর আস্থা হারিয়ে তখন চিৎকার করতে শুরু করল- হে হরি অভয়ম্, হে কৃষ্ণ অভয়ম্। তখন আমি তাকে সাহায্য করার সুযোগ পেলাম, আমাকে ডাকা মাত্রই আমি ছুটে গিয়েছি। এখন তুমিই বল, আমার দোষটা কোথায়?”

◆ উদ্ধব বললেন, “অসাধারণ ব্যাখ্যা প্রভু, আমি সন্তুষ্ট। আমি কি আপনাকে আরেকটা প্রশ্ন করতে পারি?” শ্রীকৃষ্ণ অনুমতি দিলে উদ্ধব জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভু, তাহলে আপনি কি শুধু ডাকলেই আপনার ভক্তের সাহায্যে আসেন, নিজে থেকে ধর্ম রক্ষার জন্য আসেন না?”

◆ শ্রীকৃষ্ণ হেসে বললেন, “উদ্ধব, পৃথিবীতে সবার জীবন চালিত তাদের কর্মফলের উপর। আমি এতে কোনো হস্তক্ষেপ করি না, আমি  অত্যন্ত কাছ থেকে সবকিছুর সাক্ষী হই মাত্র। এটাই ঈশ্বরের ধর্ম।”

◆ উদ্ধব বললেন, “ও, তাহলে আপনি আমাদের খুব কাছে থেকে আমাদের পাপকর্ম করতে দেখতে থাকবেন; আমরা যখন পাপের পর পাপ করতে থাকব, আপনি তখনো দেখতে থাকবেন। আপনি কি চান আমরা একের পর এক পাপ করতেই থাকি, ভুল করতে থাকি, আর তার ফলে শাস্তি পেতে থাকি?”

◆ শ্রীকৃষ্ণ বললেন, “উদ্ধব, তোমার প্রশ্নের গভীরতা অনুধাবন করো। তুমি যখন বুঝতে পারছ আমি তোমার খুব কাছে তোমার সব কর্মের সাক্ষী হই, কী করে তুমি খারাপ বা অনৈতিক কাজ করো? তুমি ভাব, আমার অজ্ঞাতেই তুমি অনেক কিছু করতে পারো, আর ঠিক তখনি তুমি বিপদে পড়। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের অজ্ঞতা ছিল এই যে, তিনি ভেবেছিলেন তিনি আমার অজ্ঞাতে পাশা খেলবেন। যদি তিনি সত্যি এটা অনুধাবন করতেন যে, আমি সবসময় সবার সঙ্গে তাদের কর্মের সাক্ষী থাকি, তাহলে কি পাশার ওই সভা ভিন্নভাবে শেষ হতো না?”
 
◆ উদ্ধব বিষ্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন, ভক্তিতে আপ্লুত হলেন। তিনি বললেন, “কী সুগভীর দর্শন! কী  ‍সুমহান সত্য! আমরা যখন এটা জানি যে, কোনোকিছুই ভগবান ছাড়া চলে না, তখন আমরা কীভাবে সাক্ষী হিসেবে তাঁর উপস্থিতি অনুধাবন করতে পারিনা? এ চরম সত্য ভুলে গিয়ে আমরা কীভাবে কর্ম করি? "

◆ ভগবদ্গীতা জুড়ে এই শিক্ষাই তো ভগবান অর্জুনকে দিয়েছেন। তিনি অর্জুনের রথের সারথি তথা তার পথনির্দেশক ছিলেন , নিজে যুদ্ধ করেননি।

◆ আমাদের সবাইর ভেতরে বাইরে সর্বাবস্থায় সেই চিরন্তন সাক্ষীকে অনুধাবন করে কৃষ্ণভাবনামৃতে নিমজ্জিত হওয়া উচিত। আমাদের ভেতরে সেই মহান সত্ত্বার উপস্থিতি আবিষ্কার করি, যিনি প্রেমময় কৃপাময় পরমচৈতন্য। 
  জয় শ্রীকৃষ্ণের জয়। হরেকৃষ্ণ।
                      🙏🙏🙏
                ( সংগ্রহ)
<--©➽-আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->
==========================